লাইব্রেরির ভেতরটা হঠাৎ থমথমে হয়ে গেল। বাইরে বুট জুতোর আওয়াজ আর কর্কশ কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে— শত্রুরা লালবাগ কেল্লার চারপাশ ঘিরে ফেলেছে।
বৃদ্ধ মানুষটি জাওয়াদের কাঁধে হাত রাখলেন।
"আমার নাম ডক্টর মানসুর। আমি ডক্টর আশরাফের শিক্ষক। তুমি যে পেনড্রাইভটি এনেছ,
সেটি
আসলে একটি কোয়ান্টাম চাবি। আর ওই হোলোগ্রাফিক ম্যাপটি দেখছ? ওটা
বঙ্গোপসাগরের গভীর তলদেশে অবস্থিত একটি গোপন ল্যাবরেটরির অবস্থান।"
জাওয়াদ অবাক হয়ে ম্যাপটির দিকে তাকাল।
"সমুদ্রের নিচে ল্যাবরেটরি? কেন?"
"ওখানে উম্মাহর বিজ্ঞানীরা একটি বিকল্প জ্বালানি
ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছিলেন, যা পৃথিবীকে তেল-নির্ভরতা থেকে মুক্তি
দিতে পারত। কিন্তু মোসাদের এই এজেন্টরা সেই গবেষণার তথ্য চুরি করে তা দিয়ে মহাকাশ
ধ্বংসকারী মারণাস্ত্র তৈরি করতে চায়।"
হঠাৎ লাইব্রেরির ছাদ ফুটো করে ওপর থেকে একটি
টিয়ারশেল এসে পড়ল। পুরো ঘর ধোঁয়ায় ভরে গেল। ডক্টর মানসুর দ্রুত একটি আলমারি
সরালেন, যার পেছনে একটি লিফট সদৃশ গোপন পথ দেখা গেল। "জাওয়াদ, আমাদের
এখনই বের হতে হবে। ওই ল্যাবরেটরিতেই লুকিয়ে আছে আসল বিশ্বাসঘাতক।"
লিফটে করে তারা মাটির অনেক নিচে নেমে এলেন।
সেখান থেকে একটি ছোট হাই-স্পিড সাবমেরিন পডে (Pod) করে তারা
সমুদ্রের নীল গভীরে যাত্রা শুরু করলেন। পডের জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছে বঙ্গোপসাগরের
তলদেশের বিচিত্র জগৎ। কিন্তু জাওয়াদের মন পড়ে আছে ডক্টর আশরাফের কাছে।
প্রায় এক ঘণ্টা যাত্রার পর তারা পৌঁছালেন একটি
বিশাল গম্বুজ আকৃতির স্থাপনার কাছে। সমুদ্রের হাজার ফুট নিচে এক অত্যাধুনিক শহর
যেন! ল্যাবরেটরির ভেতরে ঢুকতেই জাওয়াদ দেখতে পেল সারিবদ্ধ সব সুপার কম্পিউটার আর
বড় বড় কাঁচের সিলিন্ডার।
"স্বাগতম জাওয়াদ!" একটি পরিচিত কণ্ঠ শুনে
জাওয়াদ চমকে উঠল।
ল্যাবের মূল কন্ট্রোল প্যানেলের সামনে দাঁড়িয়ে
আছেন মাহিন— সেই গোয়েন্দা যুবক যে জাওয়াদকে সুড়ঙ্গ দিয়ে বাঁচিয়েছিল। কিন্তু তার
হাতে এখন পিস্তল, এবং তার লক্ষ্য জাওয়াদ আর ডক্টর মানসুর।
"মাহিন ভাই? আপনি এখানে?"
জাওয়াদের
বিশ্বাস হতে চাইল না।
মাহিন নিষ্ঠুরভাবে হাসল। "দুঃখিত জাওয়াদ।
দেশপ্রেমের চেয়ে ডলারের মূল্য অনেক বেশি। মোসাদ আমাকে এই ল্যাবের এক্সেস দেওয়ার
জন্য বিশাল অংকের প্রস্তাব দিয়েছে। তোমার ওই পেনড্রাইভটিই ছিল শেষ হার্ডওয়্যার
লক।"
জাওয়াদ বুঝতে পারল সে 'রেড হেরিং'-এর
শিকার হয়েছে। মাহিন আসলে মোসাদের একজন স্লিপার এজেন্ট। সে-ই জাওয়াদকে এখানে নিয়ে
আসার নীল নকশা সাজিয়েছিল যাতে পেনড্রাইভটি সরাসরি ল্যাবে পৌঁছে যায়।
"বিশ্বাসঘাতকতা কোনোদিন সফল হয় না, মাহিন
ভাই," জাওয়াদ শান্তভাবে বলল, যদিও ভেতরে সে
কৌশলের জাল বুনছে।
"দার্শনিক কথা বাদ দাও। পেনড্রাইভটা দাও!"
মাহিন ট্রিগারে আঙুল রাখল।
ঠিক সেই মুহূর্তে ল্যাবের রেড অ্যালার্ম বেজে
উঠল। স্ক্রিনে দেখা যাচ্ছে, সমুদ্রের ওপর থেকে একটি যুদ্ধজাহাজ
ল্যাবরেটরি লক্ষ্য করে টর্পেডো ছুড়েছে। মাহিনের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল। মোসাদ হয়তো
তাদের নিজস্ব এজেন্টের জীবনকেও গুরুত্ব দিচ্ছে না, তারা চায় শুধু
তথ্য ধ্বংস করতে।
জাওয়াদ দেখল এটিই সুযোগ। সে ডক্টর মানসুরের
দিকে ইশারা করল। ল্যাবের তীব্র রোবটিক লড়াই আর বিশ্বাসঘাতকতার এই মেঘ কি জাওয়াদ
কাটাতে পারবে?
পরবর্তী অধ্যায়ে আসছেঃ মরণপণ লড়াই ও অন্তিম বিস্ফোরণ।
[এই উপন্যাসে বর্ণিত সকল চরিত্র,
স্থান এবং ঘটনাবলি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। বাস্তবের কোনো
ব্যক্তি, গোষ্ঠী
বা ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে এর কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। কাহিনীর প্রয়োজনে কিছু
গোয়েন্দা কৌশল ও প্রযুক্তির উল্লেখ করা হয়েছে,
যা নিছক বিনোদনের উদ্দেশ্যে রচিত। গল্পের অলঙ্করণে
ব্যবহৃত ফিচার ইমেজের কোনো চরিত্রের সাথে যদি কোনো জীবিত বা মৃত ব্যক্তির চেহারার
মিল পাওয়া যায়, তবে
তা নিতান্তই অনিচ্ছাকৃত এবং কাকতালীয়। লেখক কোনো উগ্রতা বা সাম্প্রদায়িকতাকে
প্রশ্রয় দেন না; বরং
বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই এবং নৈতিক মূল্যবোধকে তুলে ধরাই এই গল্পের মূল লক্ষ্য।]


আপনার মূল্যবান মতামত দিন। আমরা আপনার কমেন্টের অপেক্ষায় আছি! দয়া করে গঠনমূলক মন্তব্য করুন এবং কোনো স্প্যাম বা বিজ্ঞাপন লিংক শেয়ার করবেন না।